ছোটোদের চাঁদের হাসি / ছড়া - কবিতা / অক্টোবর ২০২৬

ছড়া-কবিতা

 

ছবি

অশোককুমার মিত্র

 

চলতে ফিরতে এইখানে পাই হরিতকি বন,

ডালে ডালে কাঠবেড়ালির তুর্কি নাচন।

তিনটে বানরছানা ভুঁয়েতে এমনি গড়ায়,

হালকা মেঘের দল চকিতে বৃষ্টি ছড়ায়।

 

সকালে টিয়ের ঝাঁক উড়ে যায় আকাশ জুড়ে,

প্রতিদিন নিয়ম করে সুদূরে হৃদয়পুরে।

এই তো পালকি কাঁধে ছুটছে সাত কাহার

গোলবাড়িতে গানের ঘরে কে বাজায় সুরবাহার!

 

রুপো ঠিক ঝলসে ওঠে, এখানে দুপুরবেলা,

আকাশে অথৈ নীলে ভেসে যায় মেঘের ভেলা।

পুড়ছে দুপুর, ঝিমোচ্ছে তাই গাছের পাতা,

রাখছে এসব ধরে অনরণ্যার ছবির খাতা।

 

সাঁঝে যে জোনাক জ্বলে দেখেছি ঝোপে,

কে বলে ওসব নাকি আলোই নয় আদপে।

এখানে আসন পেতে পাঁচালির গল্প চলে,

নিঝুম হবে পাড়া, রাত বেশি গভীর হলে।

 

 

 

পুজোর চিঠি

কাজী মুরশিদুল আরেফিন

 

আকাশের নীল খাতার পাতায়

চিঠিটা লিখছি তোকে,

ঝলমলে রোদ পুজোর খুশিতে

ছবি আঁকে দুই চোখে।

 

দল বেঁধে যাই যেখানে তাকাই

বাতাসে কাশের দোলা,

শিউলিরা ফুটে ছড়ায় সুবাস

যায় কি কখনো ভোলা?

 

পদ্মের বিলে সকাল বিকেল

রঙিন ফুলের মেলা,

সারাদিন ধরে তালের ডোঙায়

দিঘিতে ভাসাই ভেলা।

 

সাদা-লাল-নীল পাপড়ি মেলেছে,

তোদের ওখানে ফোটে?

কাছে দূরে ঢাক বাজলে সবাই

ঠাকুরতলায় জোটে!

 

আমাদের গাঁয়ে দেখবি জ্বলছে

জোনাক পোকার আলো,

ছোটো ছোটো বাড়ি সাজানো গোছানো

এলেই লাগবে ভালো।

 

উৎসবে আজ চাইছি আবার

এখানে আসিস ফিরে,

দুর্গাকে দেবো পুষ্পাঞ্জলি

খুশির সাগর তীরে!

 

 

 

চাওয়া

আশিসকুমার মুখোপাধ্যায়

 

আর কিছু নয়, আমার

এটুকুই চাওয়া

শীতের সকালে রোদ

ভরে দিক দাওয়া,

বৈশাখে বয়ে যাক

ফুরফুরে হাওয়া।

 

তাছাড়াও খুশি হই

দেখি আমি যদি–

ঝিরঝির বৃষ্টিতে

থই থই নদী–

নাচতে নাচতে যায়

মোহনা অবধি।

 

ভালো লাগে কিচিমিচি

ডাকে যদি পাখি

মিটিমিটি জ্বালে আলো

রাতের জোনাকি,

চাঁদ জ্বলে, আর জ্বলে

তারা বাদবাকি।

 

মা শুনে এসব কথা

হেসে কুটিকুটি

আসলে তো তাঁর চাওয়া

মূলত এ- দুটি,

চাঁদ হয়ে হাসি আমি

ফুল হয়ে ফুটি।

 

 

                                                         

চেয়ে থাকি

উপাসনা পুরকায়স্থ

 

বেজে ওঠলেই ঢ্যাম-কুড়-কুড়

ছুটে এসে যাবে ভাই–

“আয় দিদি আয়–পুজো শুরু হলো

মণ্ডপে চল যাই।”

নতুন জামাটা এখন তো নয়

পরবো সন্ধ্যাবেলা,

তখন আরতি-আলো রোশনাই,

মাঠে শুরু হবে মেলা।

পিসি দরজায় আলপনা আঁকে

ঢাক-কাঠি লতা-পাতা–

অপরূপ শোভা–দেখে মনে হয়

এ যেন নকশীকাঁথা!

অঞ্জলি দেবে পাড়ার সবাই

মাইকে পুজোর গান,

কলাবউ নিয়ে গঙ্গায় নেমে

করানো হয়েছে চান।

একশো-আটটা পদ্ম আসবে

রূপাছড়া ঝিল থেকে–

কাপালিকাকুই জোগান ওসব

জল-কাদা গায়ে মেখে।

ও-ঝিল শুনেছি ভয়ানক বড়

বিষধর করে বাস,

কি করে যে কাকু ফুল তুলে আনে

জলেও চরে না হাঁস।

সেজেগুজে যাই পুজোমণ্ডপে

জ্বালাই গন্ধ-ধূপ–

প্রতিমার দিকে চেয়ে থাকি–

এ যে ভুবন ভুলানো রূপ!

 

 

 

শরৎ এলো

গৌতম হাজরা

 

শরৎকালের আকাশটা যেন রঙ-তুলি দিয়ে আঁকা,

পড়ার তেমন চাপটাপ নেই ফুরফুরে মন ফাঁকা।

সতেজ সবুজ গাছের শাখায় পাখিদের কলতান,

ভোরের বাতাসে ওই শোনা যায় বাউলদাদার গান।

সূয্যিমামাটা সকাল সকাল নতুন পোশাক পরে,

হেসে উঠতেই কাঁচাহলুদের রঙটা পড়ল ঝরে।

আঁকাবাঁকা নদী ছুটে চলে যায় খুশিতে আপনমনে,

কে আর বলো থাকতে কী চায় আপন ঘরের কোণে?

ধানের শীষে বাতাসের দোলা আলপথ ধরে হাঁটি,

চারিদিকে দেখি আকাশে ঘুড়ির চলছে রে কাটাকাটি।

শিউলি-টগর-পদ্ম-শালুক হরেক ফুলের গন্ধে,

শরৎ এলো, শরৎ এলো ঢ্যাম-কুড়কুড় ছন্দে।

কাশের গুচ্ছ দুলছে দোদুল, সাদা চুল এলোমেলো,

পুজো প্যান্ডেলে খুশির জোয়ার জয় মা দুর্গা এলো।

 

  

 

কবির খাতা

দীপঙ্কর গোস্বামী

 

বকের ডানায় পড়ল চিঠি

আকাশ মাঝে নীলে নীল–

অমনি উড়ে ভাবনা তখন

হয়ে গেল একটি চিল!

 

মন নিয়ে আর কী করি বল্?

ডুবতে ডুবতে ডুবুরি,

সাদা পাতা মারল ঘুসি

কমছে কম দু-কুড়ি!

 

তখন রেগে মুঠো ভরে

আকাশ থেকে তুলে নীল,

সাদা পাতায় মাখিয়ে দিতেই

উঠল নেচে ছন্দ, মিল!

 

জন্ম নিল শব্দ, কথা–

জন্ম নিল ছড়ার দল।

কবির খাতায় আকাশ ছুঁয়ে

বকের সারি নেয় দখল!

 


পাঠকদের মন্তব্য

tuhin chanda লিখেছেন... ১১ই অক্টোবর, ২০২৬
অসম্ভব সুন্দর সংখ্যা।
তনুজা চক্রবর্তী লিখেছেন... ১১ই অক্টোবর, ২০২৬
সুন্দর ছড়ার পাতা।

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up