ছড়া-কবিতা
মহাসাগর বিদ্যাসাগর
কাজী মুরশিদুল আরেফিন
জ্ঞানের সাগর দয়ার সাগর
বিদ্যাসাগর মশাই,
বাংলা মায়ের রত্ন তিনি
কোথায় তাঁকে বসাই।
শিখছি আজও অ আ ক খ
স্মরণ করি তাঁকেই,
দুঃসাহসী সমাজ বদল
পথের বাঁকে বাঁকেই।
বর্ণ পরিচয়ের পড়া
যায় কি থাকা ভুলেই
বাংলাভাষীর ধন্য জীবন
একটু তাঁকে ছুঁলেই ।
পথ পেরিয়ে ঘাট পেরিয়ে
কলকাতাতে এসেই—
শিক্ষা জগৎ মাতিয়ে দিলেন
সুনাম সারা দেশেই।
বোধোদয়ের আখরগুলি
পড়তে আজও শেখায়,
বীরসিংহের পুরুষ-সিংহ
দাঁড়িয়ে আছেন একাই।
ছোট্ট থেকেই সারা জীবন
শিখছি কথামালায়,
বিদ্যাসাগর মশাই এলেন
একটা প্রদীপ জ্বালাই।
সূর্য নমস্কার
অচিন্ত্য সুরাল
লক্ষ-কোটি বছর ধ'রে
নিজেই নিজের চিতায় চ'ড়ে
সূর্য যেন নিয়ম ক'রে
দুশ্চিন্তায় পুড়ছে!
সবাইকে সে দেখতে চায়,
কষ্ট সয়ে পৃথিবী তাই
অক্ষ ধ'রে ত্যারছা হয়ে
ঘুরতে ঘুরতে ঘুরছে!
এক পিঠে তার রাতের মূল্যে
উল্টোপিঠে দিন
দিনের শেষে সে-পিঠ আবার
নিকষ কালোয় লীন!
দিনের আলোয় রোদের আঁচে
পশু-পাখি, মানুষ বাঁচে
গাছপালাদের সাথে–
ঢুকল যারা ঘোর আঁধারে
থাকবে ব'সে পুবদয়ারে
ভোরের অপেক্ষাতে!
দিনের বেলা আলোয় আলো
কিন্তু যখন দিন পোহালো
গভীর অন্ধকার।
দিনই বাঁচার মন্ত্র জানে
মানুষ করে সেই কারণে
সূর্য নমস্কার !!
গায়ক ভুতো
বদ্রীনাথ পাল
গায়ক তাকে হতেই হবে এইটি করে পণ
শ্রীভূতনাথ গীত-বাদ্যে সঁপে দিলো মন।
সাধছে গলা ভোরের বেলা কোলেতে এস্রাজ।
তেরেকেটে তাক তাল ঠুকছে ফেলে সকল কাজ।
হেঁড়ে গলার বিকট সুরে পাড়াপড়শি সব
দুই হাতে কান চেপে ধরে করছে ত্রাহি রব।
ঘরের চালে বসে না আর চড়ুই-শালিখ-কাক
কুছ পরোয়া নেইকো ভুতোর, সাধনায় নেই ফাঁক!
গানটা যখন শুনলো ভুতোর, হেবোর ক্ষ্যাপা ষাঁড়
ধেয়ে এলো শিং বাগিয়ে বিগড়ে মেজাজ তার!
এমন গুঁতো মারলো, ভুতো ছেড়ে সুর ও তাল
জ্ঞান হারিয়ে ঠাঁই নিয়েছে সোজা হাসপাতাল।
চাঁদ চলেছে সাঁতরে
শঙ্খশুভ্র পাত্র
সাতসকালে টিনের চালে
ঝমঝমাঝম ছন্দে,
বৃষ্টিরানি দু’হাত তুলে
নাচছে মহানন্দে।
বাজ ডাকছে গুড়ুম, গুড়ুম,
মেঘের ভয়াল মূর্তি!
তাই না দেখে ব্যাঙছানাদের
সে কী দারুণ ফুর্তি!
থেকে থেকে বিজলি কাঁপে,
বইছে হাওয়া দমকা,
শাকচুন্নির কান্ড দ্যাখো—
বলছে কাকে, ‘কম খা!’
কম খাবে কে? ছমছমে এই
বর্ষাকালের রাত্রে,
জল-থইথই দিঘির বুকে
চাঁদ চলেছে সাঁতরে!
মাধবীলতার গন্ধ
অচিন্ত্যকুমার চক্রবর্তী
আজও ছোটবেলা ছুঁয়ে থাকে সেই
সাদা জামাটির গায়ে!
এখনো তেমনি ফড়িং-পিঁপড়ে
চোর-কাঁটা পায়ে পায়ে!
এখনো ফাইভ-সিক্সের বুকে
জমে থাকা কথাগুলো,
বন্ধুরা ঠিক বুঝে নেয় সব
হোক যত এলোমেলো!
আজও ঝড় এলে ছাতাটিকে ফেলে
বৃষ্টিতে ভেজে ঋক!
ছোট চার পায়ে কুকুরের ছানা
এসে পৌঁছায় ঠিক!
শুক্লার জ্বরে পারভিন আজও
ছুটে আসে পড়া ফেলে!
মাধবীলতার গন্ধ ছড়ায়
ওদের অন্তরালে।
তালের বড়া
সুব্রত চৌধুরী
ভাদ্র মাসে ঘরে ঘরে
তালের বড়ার ধুম,
মিষ্টি ঘ্রাণে নেয় যে কেড়ে
খোকাখুকুর ঘুম।
পাকা তালের মিষ্টি গন্ধে
জাগে মনে সুখ,
মিষ্টি স্বাদের তালের বড়ায়
সবার হাসি মুখ।
তালের রসে নারকেল কোরা
নলেন গুড়ের পায়েস,
গোবর লেপা দাওয়ায় বসে
খেতে লাগে আয়েশ।
বাড়ি বাড়ি খুশির হাঁড়ি
তালের বড়ার ঘ্রাণে,
খুশির নহর যায় যে বয়ে
খোকাখুকুর প্রাণে।
পাঠকদের মন্তব্য
250