ছোটোদের চাঁদের হাসি / গল্প শুধু গল্প নয় / জুলাই ২০২৬

খরগোশ আর বিড়ালের ঝগড়া

ঐশীর খরগোশ মনের আনন্দে পুকুরপারে ঘাস খাচ্ছিল। এমন সময় ঋষির বেড়াল এসে খরগোশকে ঘাস খেতে দেখে বলল, কী রে তুই ঘাস খাচ্ছিস? আমার ঋষিদা আমাকে মাছ-মাংস দিয়ে ভাত খেতে দিলো, আমি খেয়ে এলাম। একটু থেমে আরও বলল, আরে আমরা হচ্ছি বাঘের মাসি। আমাদের দিয়ে বাড়ির মালিকের অনেক উপকার হয়। তোদের দিয়ে কি হয় ? খরগোশ চুপচাপ আছে দেখে বেড়াল সহ্য করতে না পেরে বলল, তোদের কথা আমার জানা আছে। বেশি কথা বলিস না তো। বললে, হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেব। যারা নাকি নিরীহ এক কচ্ছপের সঙ্গে দৌড়তে গিয়ে হেরে যায়! ছিঃ ছিঃ ছিঃ–লজ্জা করে না ?

 

একটু থেমে বেড়াল আবার বলল, তুই আমার দাদার নাম জানিস ? ঋষিদা আমার দাদা, ওর কত উপকার করি, তুই শুনলে চমকে যাবি। ওর বইপত্র ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষা করি। দাদাদের কাপড়-চোপড় ওরা দাঁত দিয়ে কেটে নষ্ট করে দিত তাও আমি রক্ষা করি। তাই তো ওরা আমাকে এত আদর করে। ওদের কত বড় পুকুর, কত বড় মাঠ, কত বড় বাড়ি! এসব কি তোর ঐশীদির আছে ? আমার কোন বাধা নেই, যেখানে ইচ্ছে যেতে পারি। তুই তো ঋষিদাদের পুকুরপারের মাঠেই ঘাস খাচ্ছিস ।

 

শান্তিপ্ৰিয় জীব খরগোশ চুপচাপ ঘাস খেয়ে চলল। তা দেখে বেড়াল বলল, ওঃ খুব অহংকার দেখছি! আমাদের পূর্বপুরুষের গল্প শুনবি ? একবার আমার মা গরুমারা জঙ্গলের পাশ দিয়ে আসছিল।  হঠাৎ শুনতে পেল একটা বাঘ মাটির কুয়োতে পড়ে উঠতে না পেরে চিৎকার করে বলছে, আমাকে বাঁচাও আমাকে বাঁচাও…! চিৎকার শুনে মা কুয়োর পাড়ে এগিয়ে গিয়ে ভেতরে তাকিয়ে দেখে বলল, ছিঃ ছিঃ, তোমরা না জাতীয় পশু, তা তোমাদের এই বুদ্ধি ? আরে ওই কুয়োর মধ্যেই তো মাটির খাঁজ দেখছি। ওর ওপর পা দিয়ে উপরে উঠে এসো। বাঘ মায়ের কথা শুনে উপরে উঠে এসে মাকে বলেছিল, সত্যিই তোমরা আমাদের মাসি। এরপর থেকে আর কোনোদিন বাঘেরা আমাদের হিংসে করে না, বরং ভালোবাসে।

 

এমন সময় পুকুর থেকে একটা কচ্ছপ ডাঙায় উঠে এসে দুজনকেই বলল, আরে বোকা আমি সেই তখন থেকে খরগোশের সঙ্গে তোর ঝগড়া শুনছি। তা তোরাও কী মানুষদের মতো ঝগড়া করবি, না নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্ব রাখবি। সব মানুষই যে খারাপ তা বলছি না। তবে, বেশির ভাগ মানুষই স্বার্থপর! জানিস আমার বয়স কত হলো ? একবার তোর ঋষির বাবাই তো ওদের এক আত্মীয়কে এই পুকুরের সামনে দাঁড়িয়ে বলছিল, আমার নাকি বয়স একশো পার হয়ে গেছে। একটু থেমে বেড়ালকে বলল, তোরা তো স্বার্থপর। সবসময় মনে মনে বুদ্ধি করিস, কী করে চুরি করে মাছ-মাংস-দুধ এসব খাওয়া যায়। আর খরগোশ তো এসব খায় না, ও যা পায় তাই খায়। আর একটা কথা জেনে রাখিস, আমরাও এখন স্বাধীন। আমাদের কেউ চুরি করে নিয়ে যেতে পারবে না। সরকার থেকে কড়া নির্দেশ, আমাদের কেউ ধরলেই তার জেল বুঝলি ?

 

বেড়াল বলল, কচ্ছপদা তুমি আবার আমাদের মধ্যে এলে কেন ?

বেড়ালের কথা শুনে কচ্ছপ বলল, নিরীহ জীবকে সবাই দাবিয়ে রাখতে চায়। খরগোশ বেচারা তো বেজায় নিরীহ। কিন্তু তোর চেয়ে যারা বেশি শক্তিশালী, তাদের সঙ্গে পারবি ? এইজন্যই তো সায়নদের ল্যাবকে দেখলে ভয়ে পালিয়ে যাস। খরগোশ বলল, তুমি ঠিক বলেছো।

এমন সময় ঋষি বেড়ালকে ডাকতে লাগল। ঋষিদার ডাক শুনে বেড়াল বলল আমি যাই। ঠিক সেই সময় খরগোশকেও ঐশী ডাকতে লাগল। ঐশীর ডাক শুনে খরগোশও বলল, আমিও যাই ।

 

ওদের চলে যাওয়া দেখে কচ্ছপও বলে উঠল, যা তবে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করিস না। বরং মিলেমিশে থাক। কখন কার বিপদে কার প্রয়োজন হয়, কে জানে ! একথা বলতেই ওরা দুজনেই বলল, তুমি ঠিক বলেছো, আমরা আর ঝগড়া করব না। ওরা দুজনেই বাড়ির দিকে ছুটতে লাগল । কচ্ছপও আর সময় নষ্ট না করে পুকুরে ডুব দিল।

 


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up