ছোটোদের চাঁদের হাসি / ইতি সম্পাদক / আগস্ট ২০২৬

স্বাধীনতা দিবস, ঋষি অরবিন্দের প্রতি শ্রদ্ধা ও বাইশে শ্রাবণ

স্বাধীনতা মানে মুক্ত হাওয়ায় ডানা মেলে উড়ে যাওয়া

স্বাধীনতা মানে আলোর ছোঁয়ায় স্বপ্নের গান গাওয়া।

স্বাধীনতা মানে নতুন শপথ, নবজীবনের গান

স্বাধীনতা মানে দেশের মাটির অনন্য সম্মান !!

 

 

ছোট্টো বন্ধুরা,

 

​একটি স্বাধীন দেশ মানে শুধু একটি মানচিত্র নয়, এটি অগণিত মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম আর স্বপ্নের ফসল। স্বাধীনতা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই বীর শহীদদের কথা, যাঁরা নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন আমাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য। প্রতি বছর ১৫ই আগস্ট ভারত জুড়ে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারত স্বাধীনতা লাভ করেছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু দিল্লির লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেই থেকে প্রতিবছর এই দিনেই লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।

 

 

স্বাধীনতা দিবসে সারা দেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কুচকাওয়াজ, দেশাত্মবোধক গান, খেলাধূলা এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা অর্জন যেমন কঠিন ছিল, তেমনি তাকে রক্ষা করাও আমাদের সকলের দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার নিয়েই তোমাদেরও বড় হয়ে উঠতে হবে। দেশমাতার প্রতি ভালোবাসা তোমাদের সুনাগরিক হয়ে ওঠার অন্যতম প্রধান সোপান হোক, এই প্রার্থনা করি।

 

 

এই আগস্টেই জন্মগ্রহণ করেন ভারতের মহান দার্শনিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী ঋষি অরবিন্দ। ১৮৭২ সালের ১৫ই আগস্ট কলকাতায় অরবিন্দ ঘোষের জন্ম হয়। এরপর শৈশব ও শিক্ষাজীবনের একটি বড় অংশ তিনি ইংল্যান্ডে কাটান। দেশে ফিরে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং ‘বন্দে মাতরম’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে তোলেন। ১৯০৮ সালে আলিপুর বোমা মামলায় গ্রেফতার হয়ে ১৯০৯ সালে তিনি মুক্তি পান। ১৯১০ সালে তিনি পন্ডিচেরি (বর্তমান পুদুচেরি)-তে চলে যান। সেখানে তিনি আধ্যাত্মিক সাধনা, দর্শনচর্চা এবং সাহিত্য রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৫০ সালের ৫ই ডিসেম্বর পন্ডিচেরিতে তাঁর প্রয়াণ ঘটে। স্বাধীনতা সংগ্রামী, দার্শনিক, কবি ও যোগসাধক হিসেবে ঋষি অরবিন্দ আজও ভারতীয় চিন্তা ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

 

তোমরা সকলেই জানো বাংলা সাহিত্যের দিকপাল, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। তাঁর লেখা পড়েই তো আমাদের সবার বেড়ে ওঠা। ১৯৪১ সালের ৭ই আগস্ট, বাংলা ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২শে শ্রাবণ জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে দীর্ঘ রোগভোগের পর ৮০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং অসংখ্য মানুষ শেষবারের মতো তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়। কবিগুরুকে সাদা বেনারসী জোড় পরিয়ে সাজানো হয়েছিল। তাঁর কপালে ছিল শ্বেতচন্দনের তিলক, আর গলায় শোভা পাচ্ছিল গাঁদা ফুলের মালা। তাঁর দু'পাশে রাখা হয়েছিল শ্বেতকমল ও রজনীগন্ধা। 

 

 

জোড়াসাঁকোর ভেতরের উঠোনে শিল্পী নন্দলাল বসুর তত্ত্বাবধানে কাঠের পালঙ্ক তৈরি করা হয়েছিল। বিকেল তিনটে নাগাদ সেই পালঙ্ক কাঁধে তুলে নেওয়া হয়। কবিগুরুর মরদেহ সুসজ্জিত করে জনসমুদ্রের মাথার ওপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নিমতলা মহাশ্মশানের উদ্দেশে। কবিগুরুর প্রস্থানে শোকাহত হয়ে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন, ‘দুপুরের রবি পড়িয়াছে ঢলে অস্তপারের কোলে/বাংলার কবি শ্যাম বাংলার হৃদয়ের ছবি তুমি চলে যাবে বলে/শ্রাবণের মেঘ ছুটে এল দলে দলে…!’ পরবর্তী সময়ে বহু সাহিত্যিক ও কবি বিশ্বকবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাইশে শ্রাবণ নিয়ে অনেক কবিতা ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তাঁর অমর সৃষ্টি, গান ও সাহিত্যের মাধ্যমে প্রতি বছর ভারত, বাংলাদেশ ও সারা বিশ্বের বাংলাভাষী মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটি স্মরণ করে।

 

◾ছবি ঋণ ইন্টারনেট

 


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up