নভেম্বরে জাতীয় শিশু দিবস
উৎসব-পার্বণে ঋতু হেমন্ত,
জাতীয় শিক্ষা দিবস
গাইছে পাখি, উঠছে চাঁদ, হাসছে ফুল–
চার বছরে পা রেখেছি নেই তো ভুল।
তোমাদেরই ভালোবাসায় আলোর পথে,
এমনি করেই এগিয়ে যাব স্বপ্ন-রথে।

ছোট্ট বন্ধুরা,
তোমাদের প্রিয় ‘ছোটোদের চাঁদের হাসি ডিজিটাল‘ এই নভেম্বরে পা দিলো চতুর্থ বর্ষে। ২০২৩-এর নভেম্বর থেকে ২০২৬-এর নভেম্বর—তোমাদের নিয়েই আমাদের গত তিন বছরের পথ চলা। এই ডিজিটাল পত্রিকার সাফল্যে তোমাদের উৎসাহ ও আগ্রহের পাশাপাশি আমরা পেয়েছি আমাদের পাঠককুল এবং প্ৰিয় লেখকগোষ্ঠীর অবিরাম শুভকামনা। আগামী দিনেও এভাবেই সবাইকে পাশে পাবো আমরা, এই প্রত্যাশা রইল।
আজ কালীপুজো। আজ রাতে প্রতিটি ঘর সেজে উঠবে আলোর মালায়। প্রদীপ, মোমবাতি থেকে টুনি বাল্ব–আলোকসজ্জায় অপরূপ হয়ে উঠবে উৎসবের রাত। ছোট্ট বন্ধুরা, তোমাদের সবাইকে জানাই কালীপুজো ও দেওয়ালির শুভেচ্ছা। আলোর এই উৎসবের একটি বড় আকর্ষণ হলো বাজি-পটকা ফাটানো। আনন্দের আতিশয্যে তোমরা কিন্তু অসাবধানী হয়ো না। নিজেরা তো সতর্ক থাকবেই, এটাও খেয়াল রেখো অন্যরাও যেন কোনোভাবে বাজি-পটকায় আহত না হয় ! খেয়াল রাখতে হবে নিরীহ পশুপাখিদের কথা। খুব জোরালো শব্দে ওদের খুব কষ্ট হয়। কষ্ট হয় ছোট শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষদেরও। তাই শব্দবাজি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।
~2.jpeg)
কালীপুজোর পরেই আসে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা। ভাইয়ের জন্য বোনের মঙ্গলকামনার প্রতীক এই ঘরোয়া উৎসব বাঙালি জীবনের চিরন্তন অঙ্গ হয়ে আছে। কালীপুজো ও ভাইফোঁটা ছাড়াও, হেমন্তের অন্যতম প্রধান উৎসব হলো নবান্ন। নতুন আমন ধান কাটা এবং সেই নতুন চালের প্রথম পায়েস, পিঠা ও ক্ষীর তৈরি করা হয় এদিন। তারপর পরিবার ও আত্মীয়স্বজন মিলে খাওয়াদাওয়া, আনন্দ উদযাপনের মধ্য দিয়ে নবান্ন উৎসব পালিত হয়।
তোমরা নিশ্চয়ই জানো, বাংলা ছয় ঋতুর চতুর্থ ঋতু হলো হেমন্তকাল, যা শরৎকালের পরে এবং শীতকালের আগে আসে। এই সময় ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা পড়ে এবং ঘাসের ডগায় ও পাতার ওপর শিশিরবিন্দু জমে থাকে। সকালে মিষ্টি রোদ ও বিকেলে হিমেল বা ঠাণ্ডা বাতাস বইতে শুরু করে, যা শীতের আগমনী বার্তা দেয়। হেমন্তে দিগন্তজোড়া আমন ও আউশ ধান পেকে সোনালি রঙ ধারণ করে, যা অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্যপট তৈরি করে।

নভেম্বরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনটি যে জাতীয় শিশু দিবস, সে তো তোমরা সবাই জানো। ভারতে প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর দিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হয়। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর জন্মদিনকে স্মরণ ক’রে এই দিনটি নির্ধারিত হয়। কারণ, তিনি শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং শিশুরা তাঁকে আদর করে 'চাচা নেহরু' বলে ডাকত। ১৯৬৪ সালে নেহরুর মৃত্যুর পর থেকে ১৪ নভেম্বরকে ভারতের জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। শিশু দিবসের গুরুত্ব ও উদ্দেশ্য শিশুদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। এছাড়াও সমাজে শিশুশ্রম ও শিশু নির্যাতন বন্ধে জনসচেতনতা তৈরি করা। আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ—এই ধারণাকে সামনে রেখে শিশুদের সঠিক মানসিক ও শারীরিক বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার বার্তা দেওয়া হয় শিশু দিবসকে ঘিরে। এই দিন স্কুল-কলেজ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংস্থায় শিশুদের নিয়ে নানা ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ভারতে প্রতি বছর ১১ নভেম্বর দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১১ নভেম্বর স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মৌলানা আবুল কালাম আজাদের জন্মদিন। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভারতের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক (বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রক) ১১ নভেম্বরকে 'জাতীয় শিক্ষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে। মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC), অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (AICTE) এবং আইআইটি খড়্গপুর (IIT Kharagpur) প্রতিষ্ঠা করেন।মৌলানা আবুল কালাম আজাদ নারীশিক্ষা এবং ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছিলেন। তাঁকে ১৯৯২ সালে ভারতের মরণোত্তর সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান 'ভারতরত্ন' দেওয়া হয়। এইদিন দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেমিনার, কর্মশালা, প্রবন্ধ রচনা ও বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।
তোমরা সবাই ভালো থেকো।।
◾ ছবি ঋণ ইন্টারনেট
পাঠকদের মন্তব্য
250