উৎসবের ঋতু শরৎ
অক্টোবরে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা, স্মরণে
হোমি ভাবা ও বাল্মীকি জয়ন্তী

পুজো মানেই খুশির হাওয়ায় স্বপ্ন-ডানায় ওড়া,
সকাল বিকেল সারাটাদিন মণ্ডপেতেই ঘোরা।
সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া, সান্ধ্য অনুষ্ঠান–
আলোর মাঝে খুঁজে নেওয়া সব পেয়েছির গান !!
ছোট্ট বন্ধুরা,
এসে গেল বাঙালির সবচেয়ে প্রিয় ও আনন্দময় উৎসব দুর্গাপূজা। তোমরা নিশ্চয়ই জানো, শরৎকালের মনোরম পরিবেশে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয় বলে একে 'শারদীয়া দুর্গোৎসব' বলা হয়। এটি কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এ হলো অগণিত মানুষের মিলনের মহোৎসব। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল জুড়ে অসুররাজ মহিষাসুরের অত্যাচার বেড়ে চললে, তাকে বধ করার জন্য মহাশক্তি দেবী দুর্গার সৃষ্টি হয়। দেবী দুর্গা দশহাতে দশ অস্ত্র নিয়ে মহিষাসুরকে বধ ক’রে বিশ্বকে পাপমুক্ত করেন। তাই এই উৎসবকে অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সত্য এবং শুভশক্তির জয়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রপাঠের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সূচনা ঘটে। এরপর ষষ্ঠী থেকে দশমী—পাঁচ দিন ধ'রে চলে মূল উৎসব। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্র বর্ণময় আলোকসজ্জা এবং সুদৃশ্য মণ্ডপ তৈরি করা হয়। ঢাকের আওয়াজ, শঙ্খধ্বনি এবং ধুনুচি নাচে চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে। এই দিনগুলিতে সবাই নতুন পোশাক পরে, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখে এবং নানা সুস্বাদু খাবারের আনন্দ উপভোগ করে। তোমরা সবাই নিশ্চয়ই এভাবেই পুজোর আনন্দে মেতে উঠবে। বিজয়া দশমীর দিন দেবী প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। দেবীকে বিদায় জানিয়ে ছোটরা বড়দের প্রণাম ক'রে আশীর্বাদ নেয় এবং সমবয়সীরা কোলাকুলি ক'রে। থাকে মিষ্টিমুখের দেদার আয়োজন। দুর্গাপূজা আমাদের জীবনে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি এবং ঐক্যের বার্তা বয়ে আনে।
.png)
অক্টোবর মাসে আমাদের দেশে বহু মনীষী জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে দু’একজনের কথা আজ তোমাদের জানাব। গত ২রা অক্টোবর ছিল মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। তোমরা সবাই নিশ্চয়ই ওঁর নাম জানো। তিনি ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা এবং অহিংসা ও সত্যাগ্রহের প্রবক্তা। তাঁর পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। তিনি ১৮৬৯ সালের ২রা অক্টোবর গুজরাতের পোরবন্দরে জন্মগ্রহণ করেন। আইন পড়ার জন্য তিনি ইংল্যান্ডে যান এবং পরে দক্ষিণ আফ্রিকায় কাজ করার সময় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। ভারতে ফিরে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন, লবণ সত্যাগ্রহ ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মতো কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। সত্য, অহিংসা, স্বনির্ভরতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি তাঁর গভীর বিশ্বাস ছিল। ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি গান্ধীজির মৃত্যু হয়।
.png)
অক্টোবর মাসেই জন্মগ্রহণ করেন হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা। তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাত একজন ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী এবং আধুনিক ভারতের পরমাণু গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ। হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা ১৯০৯ সালের ৩০শে অক্টোবর মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যান এবং পরে পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ভারতে ফিরে আসেন। তাঁর উদ্যোগে ১৯৪৫ সালে টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ (TIFR) প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারতের পরমাণুশক্তি কর্মসূচির বিকাশেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বস্তুত, ভারতের পরমাণু কর্মসূচির জনক হিসেবে পরিচিত তিনি। ১৯৬৬ সালের ২৪শে জানুয়ারি এক বিমান দুর্ঘটনায় হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার মৃত্যু হয়।
![]()
তোমরা অনেকেই নিশ্চয়ই রামায়ণ পড়েছ বা রামায়ণের গল্প শুনেছ। মহাকাব্য রামায়ণের রচয়িতা হলেন মহর্ষি বাল্মীকি। তিনি সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন। প্রতি বছর আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয বাল্মীকি জয়ন্তী। এ বছর মহর্ষি বাল্মীকি জয়ন্তী পালিত হবে আগামী ২৬শে অক্টোবর। এই দিনটি কোথাও কোথাও প্রগতি দিবস নামেও পরিচিত। মহর্ষি বাল্মীকিকে সংস্কৃত সাহিত্যের 'আদি কবি' বলা হয়। কারণ, তাঁর মুখ থেকেই সংস্কৃত সাহিত্যের প্রথম শ্লোক উচ্চারিত হয়েছিল। ২৪,০০০ শ্লোক এবং ৭টি কান্ড নিয়ে মূল রামায়ণ মহাকাব্য রচনা করেন তিনি। এই দিনটিতে দেশের মানুষ মহর্ষির দয়া, মমতা, সত্য এবং ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা স্মরণ করে, যা তিনি রামায়ণ মহাকাব্যের মাধ্যমে প্রকাশ করে গেছেন।
◾ ছবি ঋণ ইন্টারনেট
পাঠকদের মন্তব্য
250