ছোটোদের চাঁদের হাসি / ইতি সম্পাদক / সেপ্টেম্বর ২০২৬

শরৎ এসেছে সাদা মেঘের ভেলায়

শিক্ষক দিবস পালন, কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্রের  জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ ও বিশ্বকর্মা পুজো

 

মনের কোণে বাজছে নাকি দুর্গাপুজোর ঘন্টা,

সামনে পড়ার বইটা খোলা, উড়ু উড়ু মনটা!

খুশির মাঝে মনে রেখো সবহারাদের কথা,

বন্ধু হয়ে পাশে থাকা শেখায় মানবতা !!

 

 

ছোট্ট বন্ধুরা,

 

বর্ষার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই প্রকৃতিতে আসে এক মায়াবী পরিবর্তন। ঘুম ভাঙে শিউলির সুবাসে। নীল আকাশে ভেসে বেড়ায় তুলোর মতো সাদা মেঘ। নদীপাড়ের কাশফুলের বনে ওঠে মিঠে বাতাসের ঢেউ। সকাল হলেই মিষ্টি রোদ ছড়িয়ে পড়ে চরাচর জুড়ে। এমনই নানা অনুষঙ্গে সেজে ওঠে শরৎ প্রকৃতি। ভাদ্র ও আশ্বিন মাস মিলে হয় শরৎকাল। অল্প-স্বল্প বৃষ্টি মাঝে মাঝে হলেও শরতের প্রকৃতি প্রধানত থাকে রোদ্দুর মাখা। কাশ, শিউলি ছাড়াও শরতে ফোটে পদ্ম, ছাতিম, বকুল, হিমঝুরি ইত্যাদি। শরতের প্রধান ফল তাল। তাই তো এই ঋতুতে বাংলার ঘরে ঘরে তালের ক্ষীর, বড়া প্রভৃতি মুখরোচক খাবার তৈরি করা হয়। এছাড়া নারকেল, ডালিম ও আমলকিও পাওয়া যায় এই সময়। এই ঋতু যে তোমাদের খুব প্রিয় ঋতু, সে কথা জানি। কেন না শরৎ মানেই দেবী দুর্গার আবাহন। প্রতি বছর উৎসবের খবর ও অফুরান আনন্দের পসরা নিয়ে হাজির হয় শরৎ।

 

 

তোমরা সকলেই জানো গত ৫ই সেপ্টেম্বর ছিল জাতীয় শিক্ষক দিবস। প্রতি বছর ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই দিনটি উদযাপিত হয়। কেন এই দিনটি শিক্ষক দিবস রূপে পালিত হয়, জানাই তোমাদের। ১৯৬২ সালে ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর কিছু গুণমুগ্ধ শিক্ষার্থী ও বন্ধু তাঁর জন্মদিন উদযাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করলে, তিনি জানান–ব্যক্তিগত জন্মদিনের পরিবর্তে ৫ই সেপ্টেম্বর দিনটি শিক্ষকদের অবদানকে উৎসর্গ করলে তিনি বেশি সম্মানিত বোধ করবেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, সমাজের মূল ভিত্তি গড়ে তোলেন শিক্ষকরা এবং শিক্ষণ পেশা হলো জাতির সেবা।  তোমরাও মনে রেখো, আমাদের সবার জীবনে শিক্ষকদের অবদান অসীম। সেই অবদানকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো আমাদের সকলের কর্তব্য।

 

 

বাংলা কথাসাহিত্যের অমর শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ১৮৭৬ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যু ১৯৩৮ সালের ১৬ই জানুয়ারি। তাঁর রচিত গল্প-উপন্যাসে চিত্রিত শিশু-কিশোর চরিত্রগুলি বাংলা শিশু-কিশোর সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তাঁর 'লালু', 'রামের সুমতি'র রাম ও 'শ্রীকান্ত' (প্রথম পর্ব)-এর ইন্দ্রনাথ চরিত্রের মতো সৃষ্টিসম্ভার কিশোর মনস্তত্ত্ব, সাহস ও শৈশবের নির্মল দুরন্তপনার অনন্য ছবি তুলে ধরেছে। 'লালু' গল্পের লালু চরিত্রটি কৈশোরের দুষ্টুমি, কৌতুক এবং সমাজের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে এক বুদ্ধিদীপ্ত কিশোরসুলভ প্রতিবাদের প্রতীক। বিত্তহীন এক কৃষকের জীবন নির্ভর শরৎচন্দ্রের লেখা ছোটগল্প ‘মহেশ’, যা বাংলা সাহিত্যের সর্বকালের সেরা এক মরমি কাহিনি। এছাড়াও তাঁর বিভিন্ন রচনায় কিশোরদের মনের কোমল ভাব, অভিমান, আনন্দ এবং গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক অত্যন্ত স্বাভাবিক ও জীবন্ত হয়ে উঠেছে। গ্রামীণ বাংলার ধুলোমাটি, নদী, বনবাদাড় ও রাখালিয়া জীবনের পটভূমিতে পল্লবিত হয়েছে শরতচন্দ্রের কিশোর চরিত্রগুলি। বিশেষত, ইন্দ্রনাথ চরিত্রটি প্রচলিত সমাজের গণ্ডি ভেঙে এক উদ্দাম, নির্ভীক ও মহৎ কিশোর প্রাণের পরিচয় দেয়, যা আজও কিশোরদের মনে অনুপ্রেরণা জোগায়।

 

 

দুর্গাপুজোর আগাম খবর নিয়ে প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্বকর্মা পূজা। পুরাণে বিশ্বকর্মাকে অসাধারণ স্থাপত্য, নির্মাণ ও কারিগরি দক্ষতার অধিকারী দেবতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। দেবশিল্পী বা দেবতাদের স্থপতি হিসেবে পরিচিত বিশ্বকর্মার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন আকাশে ঘুড়ি ওড়ানোর পেছনে পৌরাণিক বিশ্বাস ও ঋতু পরিবর্তনের আনন্দ জড়িত। দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা দেবতাদের জন্য উড়ন্ত রথ বা আকাশযান তৈরি করেছিলেন। কথিত আছে, তাঁর সেই সৃষ্টিকে স্মরণ ও সম্মান জানাতেই আকাশে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রথা চলে আসছে। শরৎকালের পরিষ্কার আকাশ ও অনুকূল হাওয়ায় উড়ন্ত ঘুড়ি যেন মুক্তির প্রতীক। এই মুক্তির আবহেই ভেসে আসে তোমাদের জন্য পূজোর ছুটির খবর। ভালো থেকো সবাই আর ভালো রেখো সকলকে।

 

◾ছবি ঋণ ইন্টারনেট


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up