কলমের বিবর্তনের ইতিহাস
প্রকৃতি চট্টোপাধ্যায়

তোমরা নিশ্চয়ই অনেকেই পেন ব্যবহার করো। পেন অর্থাৎ কলম। লেখাপড়ার ক্ষেত্রে পেন ছাড়া তো এক মুহূর্তও চলে না। দোয়াত কলম, ফাউন্টেন পেন থেকে আজকের বল পেন বা ডট পেন–লেখার জন্য কলমের পর্যায়ক্রম এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে। তবে, দোয়াত কলমেও শুরু নয়, পেন বা কলমের ইতিহাস আরও প্রাচীন। আজ সেই কলমের বিবর্তনের ইতিহাসই জানাবো তোমাদের।
একেবারে আদিম যুগে মানুষ যখন গুহায় বাস করত, তখন গুহার দেয়ালে কোনো ধারালো জিনিস দিয়ে ছবি আঁকত তারা। অনেক সময় কোনো পাতা বা শিকড়ের রসে বা জন্তুর রক্তে আঙুল ডুবিয়ে আঁকিবুকি কাটত। তার অনেক পরে যখন মানুষ সভ্য হলো, কাদামাটির পাটা বা নরম পাথরে লেখা আরম্ভ করল তখনকার মানুষ। শোনা যায়, চীনদেশে উটের রোম দিয়ে তৈরি তুলির ব্যবহার হতো।
মিশরীয়রা সম্ভবত একটা কাঠির ডগায় তামার নিবের মতো কিছু একটা পরিয়ে লেখা আরম্ভ করে। প্রায় হাজার চারেক বছর আগে গ্রীস দেশে রীতিমতো লেখালেখি আরম্ভ হয়। এদের লেখনী হতো হাতির দাঁত বা ওই জাতীয় কিছু দিয়ে তৈরি, নাম ছিল স্টাইলাস (Stylus)। সেইজন্যই আজও লেখার আঙ্গিককে বলা হয় স্টাইল ( Style)। মধ্যযুগে কাগজের আবিষ্কারের পর পালকের কলম প্রচলিত হলো।
ইংল্যান্ডে ১৭৮০ সালে নিব পরানো কলম দেখা দিলেও প্রায় ৪০ বছর তা বিশেষ ব্যবহার করা হয়নি। ১৮৮৪ সালে ওয়াটারম্যান (L.E. Waterman) আবিষ্কার করেন ফাউন্টেন পেন। এর নিব তৈরি হয় ১৪ ক্যারাট সোনা দিয়ে, আর ডগা হয় ইরিডিয়াম দিয়ে। এরপর এলো বল পয়েন্ট পেন। বিভিন্ন দেশে ক্রমানুসারে ছড়িয়ে পড়ল ফাউন্টেন পেন ও বল পয়েন্ট পেন।
তবে, কালের নিয়মেই ফাউন্টেন পেনের ব্যবহার কমে গেল ক্রমশ। আজকাল তো নানা ধরনের কলমের ছড়াছড়ি। একবার ব্যবহার করেই ফেলে দেওয়া হয়, এমন সস্তার ডট পেনও যেমন আছে, তেমন আছে সৌখিন মানুষের জন্য তৈরি দামি ডিজাইনের পেন। কলমের দাম বা ডিজাইন যাই হোক, আজকের দিনে সেটা যে অপরিহার্য, সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
◾ছবি ঋণ ইন্টারনেট
পাঠকদের মন্তব্য
250