ছোটোদের চাঁদের হাসি / জেনে নিতে মানা নেই / ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিচিত্র গুহা এলগন কেভ

 

মুম্বাই বেড়াতে গেলে অনেকেই ‘এলিফান্টা কেভস্’ দেখতে যান। চারিদিক সমুদ্র পরিবেষ্টিত ওই গুহায় হাতির কি যোগ তা স্পষ্ট নয়। তবে আফ্রিকার ‘এলগন কেভ’-এ হাতির যোগাযোগ সুস্পষ্ট। আফ্রিকার কেনিয়া ও উগান্ডা সীমান্তে রয়েছে এলগন পাহাড়। তার চারিদিক পাথুরে জমি ও জঙ্গলে সমাকীর্ণ, পাশেই রয়েছে বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া হ্রদ। ওই অঞ্চলে প্রচুর হাতির বসবাস। আফ্রিকার হাতি আমাদের দেশের হাতির তুলনায় বড় হয়। ওরা সারাদিন বনের গাছপালা খেয়ে (হাতির খোরাক ১৫০ কেজি প্রতি হাতি প্রতিদিন) বিকেলের দিকে ওই এলগন পাহাড়ের আশেপাশের ঝর্ণাগুলোতে জল খেতে আসে। এভাবেই ওই এলগন কেভের সৃষ্টি। কী ভাবে?

 

   

ভূবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন ওই ঝর্নার জল খেতে খেতে কোনও দিন কোনও হস্তিপ্রবর হয়তো ওই পাহাড়ের কোনও পাথরের টুকরো খেয়ে ফেলে। দ্যাখে দিব্য স্বাদ। যেন নুনের ডেলা। তখন অন্য হাতিরাও ওই পাহাড়ের পাথর শুঁড় দিয়ে ঝাপটা মেরে ভেঙে খেতে লাগল। পশুদের শরীরে লবণের বড় প্রয়োজন, মাংসাশী পশুরা মাংস ও রক্ত থেকে ওই লবণ পায় কিন্তু শাকাহারীদের ক্ষেত্রে তা সহজলভ্য নয়। সুন্দরবনের অরণ্যে তাই  লবণের বস্তা গাছের নীচে রেখে দেওয়া হয় যাতে হরিণরা তা চেটে চেটে খেতে পারে।

 

     এলগন পাহাড়ে এইভাবে হাতির দঙ্গলের রোজ নুন-পাথর ভেঙে খাওয়ার থেকেই বছরের পর বছরে তৈরি হলো ‘এলগন কেভ’, যা একমাত্র হাতিদের তৈরি সৃষ্টি। এই সুড়ঙ্গ বা গুহা এখন ২০০ মিটার লম্বা এবং তা ক্রমবর্ধমান। গুহার মধ্যে বড় বড় ফাটল ও নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। ওই ফাটলে পা পড়ে বেশ কিছু বাচ্চা হাতি প্রাণও হারিয়েছে। দলবদ্ধভাবে ওই অন্ধকার গুহায় ঢুকে হাতিরা তাদের শুঁড়ের জোরালো ঝাপটায় গুহার পাথর ভাঙে আর মুখশুদ্ধির মতো খায়। হাতির দল বেরিয়ে গেলে সেই গুহায় ঢোকে জেব্রা ও হরিণের দল। মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নুনপাথরগুলো তারাও চেটেপুটে খায়।

 

      

ভূবিজ্ঞানীদের মতে এলগন পাহাড় হলো এক আগ্নেয়শিলার প্রকাণ্ড স্তুপ। বহু বছর আগে ওখানে আগ্নেয়গিরি ছিল। তার লাভা উদগিরণেই পাহাড়ের সৃষ্টি। ওই গলিত লাভা বহু বছর ধরে ঠান্ডা হয়ে হয়ে সোডিয়ামের লবণে পরিনত হয়েছে। তাই তার স্বাদ নোনতা, যা হাতিদের প্রিয় খাবার। এইভাবেই সম্পূর্ণ হাতিদের দ্বারা সৃষ্ট ‘এলগন কেভ’–যা পৃথিবীতে বিরল।

 

◾ছবি ঋণ ইন্টারনেট


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up