ছোটোদের চাঁদের হাসি / জেনে নিতে মানা নেই / মার্চ ২০২৬

৭৫তম জন্মদিনে শ্রদ্ধায় স্মরণে তবলার জাদুকর

 

‘ম্যায় সুরো কো খুলা ছোড় দেতা হুঁ, উনহে discipline নেহি করতা, পিঞ্জরে কে কিওয়ার খোলো, উনহে উঁচা উড়নে দো, গানে কো সাঁস লেনি হোতি হ্যায়, আপনা তাল খুদ ঢুঁন্ডনা পড়তা হ্যাঁয়…!–SAAZ ছবির এই সংলাপটি আমরা যাঁর মুখে শুনেছি, তিনি প্রবাদপ্রতিম শিল্পী, তবলার জাদুকর ওস্তাদ জাকির হুসেন। ছবির এই সংলাপের মতোই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। গত ৯ই মার্চ ছিল ওস্তাদ জাকির হুসেনের ৭৫তম জন্মদিন। ছোট্টো বন্ধুরা, আজ সংক্ষেপে তোমাদের জানাবো সেই অবিস্মরণীয় শিল্পীর কথা।

          ১৯৫১ সালের ৯ই মার্চ মুম্বাইয়ের এক সম্ভ্রান্ত সংগীত পরিবারে জাকির হুসেনের জন্ম হয়। তাঁর বাবা ওস্তাদ আল্লারাখা ছিলেন পাঞ্জাব ঘরানার প্রখ্যাত তবলাশিল্পী এবং মায়ের নাম বাভি বেগম। আল্লারাখার সুযোগ্য পুত্র জাকিরের তবলায় তালিম শুরু হয় মাত্র ৭ বছর বয়সে। উনি মুম্বাইয়ের St Michael High School এবং পরে St Xavier’s College-এ পড়াশোনা করেছেন। মাত্র ১২ বছর বয়স থেকেই তিনি বিশ্বজুড়ে তবলার পারফরম্যান্স শুরু করেন।

 

        

দীর্ঘ সংগীত জীবনে তিনি পন্ডিত রবিশঙ্কর, পন্ডিত শিবকুমার শর্মা, পন্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, ওস্তাদ আলি আকবর খান, আমজাদ আলি খান, পন্ডিত ভীমসেন যোশী প্রমুখ কিংবদন্তি ও খ্যাতনামা শিল্পীদের সঙ্গে সঙ্গত করেছেন। তিনি শুধু একজন প্রথিতযশা তবলা শিল্পী ছিলেন না, একইসঙ্গে কম্পোজার হিসেবেও অগ্রগণ্য হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর কম্পোজিশনে অজস্র মিউজিক অ্যালবাম ,ক্যাসেট, সিডি আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

         সাতের দশকে পশ্চিমী সংগীতের সঙ্গে ভারতীয় তালবাদ্য তবলার fusion (John Mclaughlin-এর সঙ্গে ‘শক্তি’ band) তাঁকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দেয়। ওস্তাদ জাকির হুসেন বহু চলচ্চিত্রে সুরারোপ ও অভিনয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে ‘SAAZ’ উল্লেখযোগ্য। ১৯৮৮ সাল থেকে টানা কুড়ি বছর জাকির হুসেন একটি বিখ্যাত চা পাতা ব্র্যান্ডের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন, যা রীতিমতো একটি রেকর্ড !

 

       

১৯৮৮ সালে কনিষ্ঠতম Percussionist হিসেবে তিনি পদ্মশ্রী খেতাবে ভূষিত হন। ১৯৯০-এর সংগীত একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯-এ ন্যাশনাল হেরিটেজ ফেলোশিপ, ২০০২ সালে পদ্মভূষণ, ২০২৩-এ পদ্মবিভূষণ অর্জন করেন তিনি। এছাড়াও একাধিক Grammy পুরস্কার পেয়েছেন ওস্তাদ জাকির হুসেন, যার মধ্যে ১৯২৪ সালে প্রাপ্ত তিনটি Grammy পুরস্কার বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

          জাকির হুসেন কত্থক নৃত্যশিল্পী আন্তেনিয়া মিনেকোলাকে বিয়ে করেন। তাঁর দুই কন্যা আনিসা কুরেশি  ও ইসাবেলা কুরেশি যথাক্রমে চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং পাশ্চাত্য নৃত্যশিল্পী। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রানসিসকোয় ৭৩ বছর বয়সে তিনি ইহলোকের মায়া কাটিয়ে পাড়ি দেন না-ফেরার দেশে।

          মঞ্চে তাঁর হাসিমুখ, দীর্ঘ কোঁকড়ানো চুল এবং অবিশ্বাস্য দ্রুতগতির তবলা বাদন তাঁকে জীবন্ত কিংবদন্তি করে তুলেছিল। ওস্তাদ জাকির হুসেন শুধুমাত্র একজন তবলাবাদক ছিলেন না, তিনি ছিলেন Cultural ambassador বা সাংস্কৃতিক দূত, যিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে এক নতুন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত ক’রে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

 

◾ছবি ঋণ ইন্টারনেট


পাঠকদের মন্তব্য

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি

আপনি কি এই লেখায় আপনার মন্তব্য দিতে চান? তাহলে নিচে প্রদেয় ফর্মটিতে আপনার নাম, ই-মেইল ও আপনার মন্তব্য লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন।
নাম
ই-মেইল
মন্তব্য

250

    keyboard_arrow_up